ফ্যাশন শিল্পের সেরা ৫টি চাকরি

0
44
best jobs in the fashion industry
best jobs in the fashion industry

ফ্যাশন শিল্পের সেরা ৫টি চাকরি

আমরা জানি যে, বর্তমান সময়ের আধুনিক মানুষগুলো অনেক বেশি ফ্যাশন সচেতন। একে পুঁজি করে আধুনিক কর্মক্ষেত্র হিসেবে ফ্যাশন শিল্পের চাহিদা ও গুরুত্ব দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটা সময়ে মানুষ শখের বশে ফ্যাশন শিল্পে সম্পৃক্ত হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে মানুষ ফ্যাশন শিল্পে নিজেদের কর্মজীবন গড়ার প্রতি মনোনিবেশ করেছে এবং ফ্যাশন শিল্পের কাজগুলোকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছে।

ফ্যাশন শিল্পের জন্য দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে, বিভিন্ন ধরনের কোর্স ও প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। আর বর্তমানে ফ্যাশন শিল্পে বিভিন্ন ধরনের চাকরির পদ সৃষ্টি হয়েছে।দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী বেশ উচ্চ বেতনের পদে কর্মজীবন শুরু করা সম্ভব। আপনি যদি ফ্যাশন শিল্পের বিভিন্ন চাকরি সম্পর্কে জানতে চান, তবে এই আর্টিকেলটি পড়ুন। কারণ এ আর্টিকেলটিতে আমি ফ্যাশন শিল্পের অন্যতম সেরা পাঁচটি চাকরি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

১. ভিজুয়াল মার্চেন্ডাইজার

একজন ভিজুয়াল মার্চেন্ডাইজার মূলত কোনো ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের স্টোরের প্রদর্শনী ডিজাইন করে থাকে। কীভাবে দোকান সাজাতে হবে, কীভাবে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা সম্ভব এবং সর্বোপরি কীভাবে ব্যবসার ইমেজকে উন্নত করা যায়। সে বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম ও পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। আপনার যদি কোনো প্রদর্শনীতে বা বড় রাস্তায় খুচরা পণ্য-সামগ্রীর দোকানে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকে। তবে আপনি যে কোনো ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানে ভিজুয়াল মার্চেন্ডাইজার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। এজন্য আপনার তেমন কোনো শিক্ষাগত ডিগ্রি প্রয়োজন হবে না। তবে সৃজনশীল, আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকরভাবে পণ্য ও দোকানকে ক্রেতাদের সম্মুখে উপস্থাপন করার মতো যোগ্যতা থাকতে হবে।

এজন্য আপনি প্রথমে ছোট পর্যায়ের দোকান ও প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করুন। তাহলে খুব সহজেই ফ্যাশন শিল্পে ভিজুয়াল মার্চেন্ডাইজার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। এ পদে বেশ উচ্চ মানের বেতনও প্রদান করা হয়ে থাকে। একজন ভিজুয়াল মার্চেন্ডাইজারের প্রাথমিকভাবে বার্ষিক বেতন প্রায় ১৫ হাজার পাউন্ড বা ১৬ লক্ষ টাকা। আর পরবর্তীতে অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পেলে বেতন বেড়ে বার্ষিক প্রায় ২৪ হাজার পাউন্ড বা ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

best jobs in the fashion industry
best jobs in the fashion industry

২. বিক্রয় প্রতিনিধি

বিক্রয় প্রতিনিধিরা সাধারণত ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য-সামগ্রী ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। বিক্রয় প্রতিনিধি হতে হলে ভালো যোগাযোগের দক্ষতা থাকা খুবই জরুরী।

শিক্ষাগত যোগ্যতা তেমন প্রয়োজন না হলেও ফ্যাশন শিল্প সংক্রান্ত কোনো কোর্স করা থাকলে, ভালো ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা বেশ সহজ হয়ে যায়। একজন বিক্রয় প্রতিনিধির বার্ষিক গড় আয় প্রায় ১৯ হাজার পাউন্ড, যা বাংলাদেশের মুদ্রার হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২০ লক্ষ টাকা।

৩. ফ্যাশন ডিজাইনার

ফ্যাশন ডিজাইন এমন একটি শিল্প মাধ্যম, যার মাধ্যমে একজন ডিজাইনার তার নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় একটি পোশাককে আকর্ষণীয় করে তুলেন। ফ্যাশন ডিজাইন হচ্ছে একটি সৃজনশীল পেশা। এ পদে কর্মজীবন শুরু করতে হলে, একটি পোষাকের সাইজ থেকে শুরু করে তার রং, নকশা, প্রিন্ট, সেলাইয়ের ধরন ইত্যাদি কেমন হবে, এসব বিষয় সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আর ফ্যাশন ডিজাইনের উপর ডিপ্লোমা বা ব্যাচেলর ডিগ্রিপ্রাপ্ত হলে ও কম্পিউটার সফটওয়্যার সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান থাকলে এ পদে ক্যারিয়ার গড়া বেশ সহজ হয়।

এছাড়াও পোশাকের নকশা তৈরিতে ডিজাইনার নিজের ধৈর্য ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেন। তাই আপনি যদি সৃজনশীল ও নতুনত্ব কিছু করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে থাকেন, তবে আপনি ক্যারিয়ার হিসেবে এই পেশাটি গ্রহণ করতে পারেন। ফ্যাশন ডিজাইনারের বেতন মূলত কাজের অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে। তবে আপনি এ পদে চাকরি শুরু করে প্রাথমিক পর্যায়ে বার্ষিক প্রায় ২৪ হাজার পাউন্ড বা ২৫ লক্ষ টাকা বেতন পাবেন। আর অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পেলে আপনি বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডেরও অধিক আয় করতে সক্ষম হবেন, যা বাংলাদেশের মুদ্রা হিসাব অনুযায়ী ৫২ লক্ষ টাকারও বেশি।

৪. ফ্যাশন স্টাইলিস্ট

ফ্যাশন শিল্পে বেশ নতুন একটি চাকরির পদ হলো ফ্যাশন স্টাইলিস্ট। স্টাইলিস্টেরা বিভিন্ন ধরনের ফ্যাশন হাউস, দোকান ও প্রদর্শনীতে কাজ করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন জনপ্রিয় তারকাদের সঙ্গেও স্টাইলিস্টদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। কোনো পোশাকে ক্লায়েন্টে দেখতে ভালো লাগবে, কীভাবে পোশাক পরিধান করতে হবে, কোন ডিজাইন, রং ও মডেল ক্রেতার জন্য মানানসই ইত্যাদি বিষয়ে ফ্যাশন স্টাইলিস্টেরা দায়িত্ব পালন করেন।

এ পদে কাজ করতে হলে ভালো যোগাযোগের দক্ষতা এবং পছন্দ নির্বাচন ও তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার যোগ্যতা থাকতে হবে। এছাড়াও ফ্যাশন ও ডিজাইন বিষয়ে কোনো কোর্স করা থাকলে খুবই সহজে এ পেশায় ক্যারিয়ার শুরু করা সম্ভব। ফ্যাশন স্টাইলিস্ট হিসেবে বছরে প্রায় ১৫ হাজার পাউন্ড থেকে ২৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আয় করা সম্ভব, যা বাংলাদেশের মুদ্রা অনুযায়ী প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা থেকে ২৫ লক্ষ টাকা।

৫. ফ্যাশন সাংবাদিক

ফ্যাশন সাংবাদিকেরা সাধারণত ফ্যাশনের বিভিন্ন দিক বর্ণনা করা, পণ্যের রিভিউ লেখা, বিভিন্ন ডিজাইনারদের সাক্ষাৎকার নেওয়াসহ ফ্যাশন সংক্রান্ত নানাবিধ লেখালেখির কাজগুলো করে থাকে। আর তারা ফ্যাশন ম্যাগাজিন, ফ্যাশন ফিচার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে এসব লেখা প্রকাশ করেন। ফ্রিল্যান্সিং হিসেবেও এ চাকরি করা যায়। এ পদে চাকরি করতে হলে আপনাকে অবশ্যই লেখালেখির ব্যাপারে দক্ষ হতে হবে। সৃজনশীল ও চমৎকার লেখালেখির দক্ষতা না থাকলে সাংবাদিক হিসেবে ক্যারিয়ার গঠন করা সম্ভব না।

এছাড়াও সাংবাদিকতা বিষয়ে কোনো কোর্স, ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা থাকলে ফ্যাশন শিল্পে সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সহজ হয়। একজন ফ্যাশন সাংবাদিকের বার্ষিক গড় আয় প্রায় ১৫ হাজার পাউন্ড থেকে ২০ হাজার পাউন্ড, যা বাংলাদেশের মুদ্রা হিসেবে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা থেকে ২০ লক্ষ টাকা। সাংবাদিকদের আয় মূলত প্রকাশনার উপর নির্ভর করে। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করলেও আপনি ভালো মানের আয় করতে সক্ষম হবেন। মূলত যারা লিখতে পছন্দ করে এবং লেখালেখি যাদের পেশা ও নেশা তাদেরই এই চাকরিতে ক্যারিয়ার শুরু করা উচিৎ।

ফ্যাশন শিল্পে ক্যারিয়ার গঠন করার ইচ্ছা থাকলে, আপনার দক্ষতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে, এসব চাকরি থেকে যেকোনোটিকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here