বাংলাদেশিদের ওপর নজরদারি বেড়েছে ফেসবুকের!

0
3

বাংলাদেশিদের ওপর নজরদারি বেড়েছে ফেসবুকের!

হঠাৎ করে বাংলাদেশি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওপর ফেসবুক কর্তৃপক্ষের নজরদারি যেন একটু বেশিই বেড়েছে। যার ফলে দিনের পর দিন বন্ধ হতে চলেছে বাংলাদেশের অসংখ্য ফেসবুক গ্রুপ ও অ্যাকাউন্ট।
জানাগেছে, গত সোমবার মধ্য রাত থেকে বন্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশি অসংখ্য ফেসবুক আইডি ও গ্রুপ। সেই সঙ্গে একই রাতে হামলা হয়েছে বাংলাদেশের তারকাদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও। এরপর থেকে চার অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, সংগীতশিল্পী ইমরান, অভিনেত্রী মুমতাহিনা টয়া ও পূজা চেরির ফেসবুক আইডি ডিজেবল দেখাচ্ছে।

Image result for নজরদারি বেড়েছে ফেসবুকের!

তবে এসবের কারণ কী? 
ফেসবুক বলছে, ডিজেবল আইডিগুলো কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘনের অপরাধে এসব গ্রুপ ও অ্যাডমিনদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিজেবল করে দেয়া হয়েছে।

এদিকে, বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের শীর্ষ ফেসবুক গ্রুপগুলোর মধ্যে রয়েছে, এভারগ্রিন বাংলাদশ, বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকারস, আপওয়ার্ক বাংলাদেশ, সার্চ ইংলিশ, আওয়ার এভারগ্রিন বাংলাদেশ, ভাইরাল গ্রুপ বাংলাদেশ, ভয়েস অব রাইটস, প্রবাসী বাংলাদেশ, সোনার বাংলা, সবুজ শাড়ি লাল টিপ, ছেলে ভিএস মেয়ে, আমাদের খুলনা- ওয়ার্ল্ড ইন বাংলাদেশ, উই আর বাংলাদেশ, ক্রিকেটখোরসহ আরো অসংখ্য ফেসবুক গ্রুপ।

এর জন্য কী কোনো হ্যাকারগ্রুপ দায়ী না ফেসবুক কর্তৃপক্ষই এসব করছে- এর কোনো সদুত্তর এখনো মেলেনি। ফেসবুক প্রতিনিয়তই তাদের নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে। বর্তমানে ফেসবুক আরো কিছু নীতিমালা যোগ করেছে সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে। যার ফলে হয়ত এমনটা হচ্ছে।

কোনো বড় নামধারী টেরোরিস্টের ছবি, গ্রুপে বা অ্যাকাউন্টে আপলোড করা মাত্রই পার্মানেন্টভাবে নিস্ক্রিয় করে দেয়া হচ্ছে সেই ফেসবুকের গ্রুপ ও অ্যাকাউন্ট। এতে প্রতীয়মান হয় যে, ফেসবুক তাদের অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করতে দেয়ার ব্যাপারে অনেক সতর্ক হয়েছে। এই কারণে ব্যবহারকারীদেরও অনেক সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

এদিকে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলো ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম। কারণ এরই মধ্যে অনেক গ্রুপ অ্যাডমিন ও ইউজার তাদের আইডি পুনরুদ্ধারের বহু চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু শোনা গেছে, তাদের প্রায়ই ব্যর্থ হয়েছেন। তবে এটাকে সাময়িক ত্রুটি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খুব শিগগিরি তা সংশোধন করা হতে পারে বলেও ধারণা তাদের। যদিও এই ব্যাপারে ফেসবুক এখনো মুখ খোলেনি। তবে এই ধরনের চলতে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে অনেক সরকারি, বেসরকারি বা বাণিজ্যিক গ্রুপ।

কারণ, ফেসবুকের মাধ্যমে এখন অনেক গ্রুপ তাদের আয়ের ব্যবস্থা করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা তারা এখন এই সব গ্রুপে অনেক ফ্যান ফলোয়ার অ্যাডও করেছেন। এই অবস্থায় যদি তাদের গ্রুপ বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায় তাহলে মোটাদাগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারা। তাই আশঙ্কামুক্ত নয় কোনো গ্রুপই। ফেসবুকের কমিউনিটি নীতিমালা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এই আশঙ্কা সব গ্রুপ অ্যাডমিনদের জন্যই থাকছে।

তবে তারকাদের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ডিজেবল হচ্ছে কেন?
শুধু এই ধরনের গ্রুপ নয় সোমবার রাতে ডিজেবল হয়েছে অনেক তারকা-স্টারদের ফেসবুক আইডি ও ফ্যান পেজ। চার অভিনেতাসহ অনেক ছোট তারকাদের ফেসবুক আইডি এরপর থেকে ডিজেবল দেখাচ্ছে। অর্থাৎ ফেসবুকে তাদের আইডি পাওয়াই যাচ্ছে না।

এই প্রসঙ্গে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কথা বলেছেন তারকা অপূর্ব। তিনি জানান, সোমবার মাঝরাত থেকে তার আইডিতে ঢুকতে পারছেন না তিনি। কে বা কারা যেন রিপোর্ট করে এটি ডিজেবল করে দিয়েছে। তবে এমন কোনো কাজ তিনি করেননি যে এটা হবে। বিষয়টা খুবই বিব্রতকর বলে জানান অপূর্ব। তিনি বলেন, এখনো আমি আমার আইডি ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সংগীত শিল্পী ইমরানেরও একই হাল। তিনিও হারিয়েছেন তার ফেসবুক আইডি। এরপর তিনিও কথা বলেছেন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে চারটার পর আইডিতে লগ ইন করতে পারছেন না তিনি। তবে যারা তার এই ক্ষতি করেছে, তাদেরকে সাইবার ক্রাইমের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া উচিত বলে মনে করেন এই শিল্পী। এদের কারণে মানুষ কতটা বিভ্রান্তিতে পড়ে বলেও জানান তিনি।

এদিকে আমেরিকায় অবস্থানরত অভিনেত্রী, নির্মাতা, গায়িকা মেহের আফরোজ শাওনের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঢোকার চেষ্টা করেছেন নাকি হ্যাকাররা। পরে তারা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে না পারলেও ইনস্টাগ্রাম হ্যাক করতে সক্ষম হন। আমেরিকা থেকে গতকাল ফেসবুকে এমনটা জানিয়েছেন শাওন। বর্তমানে তিনি সেখানে ফিল্মের ওপর পড়াশোনা করছেন। আর শেষ করে শিগগিরি দেশে ফিরে আসবেন বলেও জানান এই অভিনেত্রী।

অ্যাকাউন্ট হ্যাক হচ্ছে, তবে একের পর এক এইভাবে ফেসবুক গ্রুপও ডিজেবল হচ্ছে কেন? এই প্রশ্ন এখন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যেও হানা দিচ্ছে বারবার। তবে কেউ এর সদুত্তর দিতে পারছে না। আসলে কেন ফেসবুক গ্রুপ ডিজেবল হচ্ছে কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে জানা গেছে, মূলত জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, ধর্মীয় ইস্যুতে কঠোর হচ্ছে ফেসবুক। কেউ এই ধরনের কিছু করার চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে চিরস্থায়ী বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ফেসবুক গ্রুপ। এছাড়া যেকোনো ধরনের অস্ত্রের ছবি, জঙ্গির ছবি, সন্ত্রাসীর ছবি, ধর্মীয় কোনো গোষ্ঠীকে হেয় করে ফেসবুক পোস্ট দিলে তার আইডি ও গ্রুপ বিপজ্জনক অবস্থায় চলে যাচ্ছে। এমনকি এই ধরনের কোনো পোস্ট দেয়া মাত্রই ফেসবুক রিপোর্ট করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে তারা। তবে রিপোর্ট না করেও ফেসবুক কর্তৃপক্ষের চোখে পড়লে অটো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এসব গ্রুপ।

প্রতিকারের উপায় কী?
প্রতিকারের উপায় একটাই, যাদের গ্রুপ এখনো ঠিক আছে তারা নিজ গ্রুপ বাঁচাতে গ্রুপ আর্কাইভ করে রাখতে পারেন। অথবা পাবলিক কমেন্ট বন্ধ করে দিতে পারেন। ফলে গ্রুপে কোনো পোস্ট, মন্তব্য ও রিপোর্ট করার সুযোগ থাকবে না। আর এই অবস্থা চালু রাখতে হবে ফেসবুক নীতিমালার পরবর্তী সংস্করণ না হওয়া পর্যন্ত। তবে অ্যাডমিনদের গ্রুপ ব্যবহারে যথেষ্ট সচেতন হলে পারবে নিজের গ্রুপটি বাঁচাতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here