দেরিতে বিয়ে, পরিবেশ, স্ট্রেস বাড়াচ্ছে বন্ধ্যাত্ব

0
7
দেরিতে বিয়ে

দেরিতে বিয়ে, পরিবেশ, স্ট্রেস বাড়াচ্ছে বন্ধ্যাত্ব

আগামিকাল, রবিবার মাদার্স ডে। অর্থাৎ, দরজায় কড়া নাড়ছে। আর নিজের সন্তানের গলা থেকে ‘মা’ ডাক শোনার জন্য চিকিৎসকের দরজায় দরজায় ঘুরছেন অসংখ্য সন্তানকামী মা। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের শতকরা ১০-১৫ শতাংশ দম্পতিই বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছেন। কারণ পরিবেশ দূষণ, স্ট্রেস, দেরিতে বিয়ে।

শহরের এক নামজাদা ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের চেম্বারে মঙ্গলবার দেখাতে এসেছিলেন এক চাকুরিরতা মহিলা। বিয়ের পর দীর্ঘদিন কেটে যাওয়ার পরও সন্তানধারণ করতে পারেননি তিনি। নিজের রোজগারের টাকায় দু’বার আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তানধারণের চেষ্টা বিফলে গিয়েছে। সংসারে নিজের রোজগারের টাকা দিতে না-পারায় ঘর থেকে বিতাড়িত করেছেন স্বামী-শ্বশুর। তবুও একবার মা’ ডাক শোনার আশায় ডাক্তারের চেম্বারে এসেছিলেন তিনি।

চিকিৎসক গৌতম খাস্তগিরের কথায়, ‘প্রতিদিন অসংখ্য দম্পতি আমাদের কাছে আসেন বন্ধ্যাত্বের সমস্যা নিয়ে। সংখ্যাটা প্রতিদিন বাড়ছে। তবে সেটার কারণ বন্ধ্যাত্ব বৃদ্ধি না বন্ধ্যাত্ব সম্পর্কে সচেতনতার অভাব তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল।’

বন্ধ্যাত্বের বর্তমান কারণ কী? ভারতের ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিন্ময় বসু বলছেন, ‘শারীরবৃত্তীয় কারণ তো রয়েইছে, পাশাপাশি স্ট্রেস, পরিবেশ দূষণ, দেরিতে বিয়ে এসবও এখন বন্ধ্যাত্বের কারণ হিসেবে উঠে আসছে।’ একটা সময় পর্যন্ত মূলত মহিলাদের সমস্যার কারণেই বন্ধ্যাত্বের সমস্যার সঙ্গে দম্পতিদের যুঝতে হচ্ছে বলে মনে করা হলেও, সময় এবং গবেষণার সঙ্গে সঙ্গে সে ধারণা বদলেছে। গৌতমবাবুর কথায়, ‘স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলিতে করা একটা পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, গত ১০০ বছরে সেখানকার পুরুষদের শরীরে শুক্রাণুর সংখ্যা কমেছে ভয়ঙ্কর ভাবে। ঘটনা হল, কারখানার বর্জ্য নদী-সমুদ্রে মেশার ফলে সেই বর্জ্যের প্রভাবে মাছেদের শরীরে বাড়ছে ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ। যেটা খাওয়ার ফলে পুরুষদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন বেড়ে গিয়ে শুক্রাণুর সংখ্যা কমাচ্ছে। আমাদের দেশের ক্ষেত্রেও যা একই রকম বাস্তব। ফলে, সহজ করে এটা বলাই যায় পুরুষদের মধ্যে বন্ধ্যাত্ব বৃদ্ধির পিছনে দূষণের একটা প্রভাব রয়েছে।’

ঘটনা হল, বন্ধ্যাত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই ইনফার্টিলিটি চিকিৎসা সফল হওয়ার হারও বাড়ছে ক্রমেই। ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ শিউলি মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের শহরের ইনফার্টিলিটি সেন্টারগুলোর সাকসেস রেট ৫০-৬০ শতাংশ। যেটা কিন্তু খুব খারাপ নয়। কিছু ফেলিওর তো থাকেই। যেহেতু প্রচুর টাকা খরচ করে এই চিকিৎসা করাতে হয়, তাই সফল না-হলে পরিবার-পরিজনদের চাপ অনেকটাই বেড়ে যায়। ফলে, চিকিৎসা সফল না-হলে ভয়ঙ্কর মানসিক চাপের মধ্যে পড়তে হয় দম্পতিকে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here