রোজা নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

0
2
রোজা নিয়ে কিছু ভুল ধারণা
রোজা নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

রোজা নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

রোজা নিয়ে কিছু ভুল ধারণা, শুরু হয়েছে মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাস। যারা রোজা রাখেন, তারা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিছুই মুখে দেননা। স্বেচ্ছা নিয়ন্ত্রণ আর বেশি সময় ধরে প্রার্থনার ভেতর দিয়ে মুসলমানরা এ মাসে নতুন করে আত্মশুদ্ধি অর্জনের চেষ্টা করেন। আপাতদৃষ্টিতে রোজা সহজ সরল একটি ধর্মীয় আচরণের বিষয়, কিন্তু এটি নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা রয়েছে যেগুলো নিয়ে রয়েছে মতভেদ।

দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভেঙে যায়

অনেক মানুষ মনে করেন পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভেঙে যায়। কিন্তু ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভাঙ্গে না। অনেক মানুষ অতি সাবধানী। তাদের জন্য কিছু পরামর্শ হিসেবে তারা বলেন, সবচেয়ে ভাল পরামর্শ অল্প পরিমান পেস্ট নিন। মিন্টের গন্ধ কম এরকম পেস্ট ব্যবহার করুন। গাছের সরু ডাল থেকে তৈরি মিসওয়াক বা দাঁতন ব্যবহার করতে পারেন।

মুখের লালা পেটে ঢুকলে রোজা থাকে না

মুখের লালা পেটে ঢুকলে কোনো অসুবিধা নাই। মুখের লালা পেটে ঢুকলে রোজা থাকে না এই বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই, নিজের লালা গিলে ফেলা খুব স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রক্রিয়া, এতে অবশ্যই রোজা ভাঙে না। বরং ইসলামে রোজার সময় মুখের লালা খাওয়া উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে অন্যের মুখের লালা নিজের মুখে ঢুকলে রোজা থাকবে না। তাই রোজা পালনের সময় আপনি আপনার সঙ্গীকে চুম খেতে পারবেন না, অন্তরঙ্গ হওয়া যাবেনা। কারণ মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে আপনার আকাঙ্ক্ষাকে সংযত করা। সে কারণেই খাবার, পানীয় বা অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বন্ধ রাখতে হবে।

শুধু খাবার অথবা পানি না খেলেই রোজা কবুল হয়

শুধুমাত্র খাবার মুখে দিলে বা পানি পান করলে রোজা ভেঙে যাবে তাই নয়। আরো কিছু আচরণে রোজা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিছু অপরাধ জিহ্বা দিয়ে হয় যেমন আপনি যদি বদনাম করেন, গুজবে অংশ নেন বা কাউকে গালিগালাজ করেন, তাহলে রোজা কবুল নাও হতে পারে।

অসাবধানতায় কিছু খেয়ে ফেললে রোজা ভেঙে যায়

আপনি যদি সত্যিই একদম ভুলে কিছু খেয়ে ফেলেন, তাহলেও আপনার রোজা বৈধ থাকবে, যদি না আপনি বোঝার সাথে সাথে খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু নামাজের আগে ওজুর সময় যদি আপনি অনিচ্ছাকৃত-ভাবে পানি খেয়ে ফেলেন তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ এই ভুল এড়ানো সম্ভব। এ কারণে রোজা রেখে অজু করার সময় গারগল না করতে পরামর্শ দেন ইসলামি চিন্তাবিদরা। আপনি শুধু কুলি করে পানি ফেলে দিন।

ওষুধ খাওয়া যাবে না

রোজা রেখেও কিছু ওষুধ ব্যবহার করা যাবে। যেমন, চোখের ড্রপ। চোখের ড্রপ, কানের ড্রপ বা ইনজেকশনে রোজা ভাঙবে না। তবে যেসব ওষুধ মুখে দিয়ে খেতে হয়, সেগুলো নিষিদ্ধ। সেহরির আগে এবং ইফতারির পর তা খেতে হবে। তবে অসুস্থ থাকলে ভাবেতে হবে আপনি রোজা রাখতে পারবেন কিনা পবিত্র কুরআনে পরিষ্কার বলা আছে, আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ মত চলুন।

যে কোনো পরিস্থিতিতেই রোজা রাখতে হবে

ইসলামে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক (সাধারণত ১৫ বছর) এবং সুস্থ ব্যক্তির রোজা ফরজ বা আবশ্যিক করা হয়েছে। শিশু, অসুস্থ (শারীরিক এবং মানসিক), দুর্বল, ভ্রমণকারী, অন্তঃসত্ত্বা বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন নারীর জন্য রোজা আবশ্যিক নয়। যদি স্বল্প সময়ের জন্য কেউ অসুস্থ হন, তাহলে সুস্থ হওয়ার পর অন্য সময়ে তিনি ভাঙা রোজাগুলো পূরণ করে দিতে পারেন। যদি দীর্ঘস্থায়ী কোনো অসুস্থতা থাকে এবং রোজা রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে রোজার মাসের প্রতিদিন ফিদা অর্থাৎ গরীবদের কিছু দান করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here