চোখের নিচে ফুলে যাওয়া

0
5
চোখের নিচে ফুলে যাওয়া

চোখের নিচে ফুলে যাওয়া

ডার্ক সার্কেলের ব্যাপারটা তো বোধহয় সবাই কম বেশি জানে। অনেকে এও জানেন যে ডার্ক সার্কেল কেন হয়। কিন্তু কারো কারো দেখা যায় যে তাদের চোখের নিচের অংশ ছোট একটি গোল পোটলার মতো হয়ে ফুলে আছে। শুদ্ধ ভাষায় এই সমস্যাটাকে বলা হয় আই ব্যাগ।

আই ব্যাগ থাকাটাকে অ্যাবনরমাল নয়, কিন্তু  অনেকেই তাদের অজান্তে এই ব্যাপারটির প্রকোপ আরও বাড়িয়ে ফেলছেন।

জেনে নিন, আই ব্যাগ কেন হয় এবং এটি  কমানোর জন্য আপনার কী কী করনীয়।

 

কারণ ১ – আপনার যদি ভালো ঘুম না হয়

চোখের নিচে ফুলে যাওয়ার একটা বড় কারণ প্রতিদিন ঘুম ঠিক মতো না হওয়া। যারা রাতে জেগে থাকেন এবং দিনেও ঘুমের পরিমাণ কম তাদের ওয়াটার রিটেশন তথা শরীরের অযাচিত পানি জমে মুখে চলে আসে। আর তাই অনেকের সারাদিন মুখ ফুলে থাকে আবার অনেকের চোখের নিচে ব্যাগ চলে আসে। বছরের পর বছরের এই অনিয়মে আই ব্যাগ স্থায়ী হয়ে যায়। এবং চেহারায় একটা পার্মানেন্ট বয়স্ক, টায়ার্ড ভাব চলে আসে।

করনীয় কি ?

দিনের বেলায় না ঘুমিয়ে রাতে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। অবশ্যই প্রতিদিন রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাবেন। এর কোন বিকল্প নেই। ঘন ক্রিম ইউজ করবেন না। ঘন থিক আই ক্রিম ইউজ করলে চোখের নিচে ওয়াটার রিটেনশন প্রব্লেম আরও বেড়ে যাবে।

 

কারণ ২ – খুব দ্রুত ওজন কমিয়ে ফেলেছেন

সকলের কাছে আকর্ষণীয় করতে আপনি হয়তো নিজের খেয়াল না রেখেই খুব বাজেভাবে ক্র্যাশ ডায়েট করে ওজন কমিয়েছেন। ব্যাপারটা হলো শরীরে আপনার যেটুকু অতিরিক্ত পানি জমে ছিল সেটা হঠাৎ বেড়িয়ে গেছে। তখন আপনার শরীর চাইবে যত দ্রুত সম্ভব শরীরের পানি ফিরিয়ে আনতে।  ফলাফল, কিছুদিনের মধ্যেই চোখের নিচে পানি জমে আই ব্যাগ তৈরি হওয়া।

করনীয় কি ?

কোন ভাবেই এক মাসে ২-৩ কেজির বেশি ওজন কমানো যাবেই না। নয়তো রেজাল্ট হিসেবে আই ব্যাগ এসে যাবে।

 

কারণ ৩ – অতিরিক্ত লবন খাওয়া

রান্নার মধ্যে আমরা যে লবণ দিয়ে থাকি তাতেই কিন্তু আমাদের শরীরে জন্য যথেস্ট লবণ হয়ে যায়। এছাড়া অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার দরকার নেই, যতই খেতে ভাল না লাগুক। একজন মানুষের দিনে সবমিলিয়ে ১ চা চামচের বেশি লবন খাওয়ার দরকার হয় না। যত অতিরিক্ত লবন খাবেন ততই আপনার বডিতে অতিরিক্ত পানি জমবে। এবং যত পানি জমবে ততই আপনার আই ব্যাগ বাড়বে।

করনীয় কি ?

কাঁচা লবন পাতে নিয়ে খাওয়া একেবারেই বন্ধ করুন। অবশ্যই দিনে ৩ লিটার করে পানি খাবেন। যত বেশি পানি খাবেন তত বেশি আপনার শরীর নিজে থেকে জমিয়ে রাখা পানি বের করে দেবে

 

কারণ ৪ – আপনার হরমোন লেভেল ওঠা নামা করে

আই ব্যাগ তৈরী হয় দুটি কারণে। এক, শরীরে পানি জমা, দুই, চোখের নিচে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় ফ্যাট জমা হবার কারণে। হরমোন লেভেলের ওঠা নামার কারণে শরীরে পানি জমা এবং ফ্যাট জমা দুটোই চেঞ্জ হতে পারে। এবং একারণে হঠাৎ করে আপনার ফেস শেপ চেঞ্জ হওয়া এবং আই ব্যাগ দেখার মতো সমস্যা হতে পারে।

করনীয় কি ?

থাইরয়েড , মেনোপজ, প্রেগন্যান্সি এসব কারণে আপনার যে ম্যাসিভ হরমোনাল চেঞ্জ হয় সেকারণে আপনি এসব সিম্পটম গুলো দেখতে পাবেন। হরমোন কনট্রোল সম্পূর্ণভাবে করা হয়তো সম্ভব না।

কিন্তু আপনি যদি চিরতরে আই ব্যাগ থেকে মুক্তি পেতেই চান তবে সারজিকালি চোখের নিচের ফ্যাট ডিপোসিট সরিয়ে ফেলতে পারেন। অথবা চোখের নিচে বোটক্স ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন। দুই উপায়েই আপনি দীর্ঘসময়ের জন্য আই ব্যাগ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। অবশ্যই এই ট্রিটমেন্টের জন্য একজন ডার্মাটোলজিস্ট এর সাথে কথা বলবেন।

 

কারণ ৫- এটা আপনার বংশগত সমস্যা

বংশগত ব্যাপারটা এখানে আসবেই। বাবা মা কারো যদি আই ব্যাগ থেকে থাকে তবে সন্তানেরও হতে পারে। এটা অত্যন্ত  স্বাভাবিক। এই ধরণের সমস্যায় কোন হোম রেমেডি কাজ করবে না।

করনীয় কি ?

সমাধান একটাই । ফ্যাট রিমুভাল অ্যান্ড বোটক্স।

 

এই যে ফ্যাট রিমুভাল অ্যান্ড বোটক্স বলা হলো। এটা আসলে কি ?

এটি একধরনের ইনজেকশন৷ সাধারণত মুখের বলিরেখা কমানোর জন্য ছোট সূঁচের মাধ্যমে এটি দেওয়া হয়ে থাকে৷ মুখের পেশিতে এই ইনজেকশন দিয়ে পেশিকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়া হয়৷ ফলে মুখের ভাঁজ অনেক কম হয়ে যায়৷ ছ’মাস বোটক্সের প্রভাব থাকে৷ এরপর মুখের বলিরেখা আবার আগের মতোই ফিরে আসে৷ তাই, প্রতি ছয় মাস অন্তর এই বোটক্স নিতে হয়৷ এর কোনো পার্শপ্রতিক্রিয়া নেই।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here