এখন আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের মা : প্রধানমন্ত্রী

0
81
sheikh hasina
এখন আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের মা : প্রধানমন্ত্রী

এখন আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের মা : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,

আমি বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী হলেও এখন আমি একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের মা। এ দেশে কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়াতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আমাকে সহযোগিতা করেছে।

বিদেশে অবস্থান করলেও দেশের উন্নয়নে এনআরবি প্রকৌশলীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারে যে দেশের উন্নয়ন সম্ভব তা আমরা করে দেখাতে পেরেছি। এক্ষেত্রে আপনারা (এনআরবি প্রকৌশলী) আরও যে সব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছেন তা দূর করে দেশকে এগিয়ে নিতে আপনাদেরই ভূমিকা রাখতে হবে।’

মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে এন আর বি ইঞ্জিনিয়ার্সদের দু’দিনব্যাপী কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশে কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ই আর ডি’র ভারপ্রাপ্ত সচিব মনোয়ার আহমেদ। এছাড়া অন্যান্যদের মাঝে জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী ও কনভেনশনের আহ্বায়ক আজাদুল হক বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেবার মান উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, বিমান ও হেলিকপ্টার সেবা উন্মুক্ত করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্র উন্মুক্ত করে সেবার মান বাড়াতে ও অবারিত সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করছে সরকার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছাতে কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে দেশে কম্পিউটারের ব্যবহার বেড়েছে। সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ গ্রহণ করায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়েছে। যোগাযোগ আরও সহজ হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ অফিসে একটি কম্পিউটার কিনেছিলাম, তখন ওই কম্পিউটারে খরচ পড়েছিল তিন লাখ টাকা। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য নেদারল্যান্ডের সঙ্গে ১০ হাজার কম্পিউটার ক্রয়ের বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছিল। তারা অর্ধেক খরচে আমাদের কম্পিউটার দিতে চাইলেন। কিন্তু ইতোমধ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলো।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার কাছে কে যেন বলেছে, এটা নেদারল্যান্ডের টিউলিপ কোম্পানি থেকে কেনা। ওই কোম্পানি শেখ রেহানার মেয়ের নামে -এ কথা শুনে খালেদা জিয়া প্রকল্পটি বাতিল করে দেয়। ফলে আমাদের অনেক টাকাও লস হয়েছে। এছাড়া তারা (বিএনপি) সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ থেকেও বাংলাদেশকে বঞ্চিত করেছে। প্রযুক্তি সম্পর্কে না জানার কারণে বাংলাদেশকে তারা বারবার পিছিয়ে দিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে কম্পিউটারের ওপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করে এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। জেলা-উপজেলা এমনকি থানা-ইউনিয়ন পর্যন্ত ট্রেনিং দেয়া হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ এখন কম্পিউটারে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে-মেয়েরাও এখন অর্থ উপার্জন করছে। বাংলাদেশ এখন হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, যারা এক সময় অক্ষর চিনতো না। মোবাইল ব্যবহারের ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে অক্ষর শিখেছে, পড়াও শিখেছে। মোবাইলে বাংলায় ম্যাসেজ আসলে তারা পড়তে পারে। এভাবে দেশে অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। আমাদের এমন উদ্যোগের ফলেই এক সময়ে টেবিলে সাজানো থাকা কম্পিউটারে কাজ শুরু হয়েছে। কম্পিউটার নিয়ে আমাদের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে হাইটেক পার্ক করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে আইসিটি ও ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। হাইটেক ও ডিজিটাল পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। দেশের সন্তানরা সেখানে ভালো কাজ করছে। এছাড়া অনলাইন মার্কেট প্লেসের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন পণ্য ক্রয়-বিক্রয়সহ কুরবানির প্রাণীও এখন অনলাইনে বেচা-কেনা করা যাচ্ছে।’

মোবাইলফোনের ব্যবহার উন্মুক্ত করায় এর ব্যবহারকারী বেড়েছে। এর ফলে স্বাক্ষরতার হারও বাড়ছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহর ভিত্তিক উন্নয়ন নয়, বরং প্রতিটি গ্রামে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। এনআরবি প্রকৌশলীদের নিজ নিজ গ্রাম ও অঞ্চলের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। এলাকা ভিত্তিক শিল্প স্থাপন থেকে শুরু করে বিভিন্ন উদ্যোগকে সহায়তা দিতে সরকার তাদের পাশে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের কোন এলাকায় কোন ধরনের উন্নয়ন দরকার, কি কি প্রয়োজন তা নিয়ে কাজ চলছে। উন্নয়নের জন্য বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। বিতরণ লাইন বাড়ানো হচ্ছে। সোলার প্যানেলের ব্যবহার বেড়েছে। এছাড়া সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে স্বন্দ্বীপের মতো এলাকাতেও বিদ্যুৎ পৌঁছানো হচ্ছে।’

দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মাসেতুর নির্মাণে কাজ চলছে। কর্ণফুলি টানেল নির্মাণও শুরু হয়েছে। ঢাকার সঙ্গে সিলেট-চট্টগ্রাম-দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নেও কাজ চলছে। সড়ক ও রেল যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও আরামদায়ক করতে কাজ এগিয়ে চলেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হয়েছে। কক্সবাজারকেও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়তে কাজ এগিয়ে চলেছে।’

তিনি আরও বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। এর মধ্য দিয়ে এসডিজি গোল বাস্তবায়ন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here