স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষকদের উদ্দেশে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

0
606
স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষকদের উদ্দেশে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী
স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষকদের উদ্দেশে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষকদের উদ্দেশে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

মহান স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষকদের বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ঢাকা জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ পরামর্শ দেন তিনি।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে শিশুদের-কিশোরদের রক্ষায় শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। আজকের শিশু আগামী দিনে এ দেশের কর্ণধার। আজকের শিশুদের মধ্য থেকেই কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী হবে; কেউ বড় বড় চাকরি করবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘শিশুদের দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। প্রযুক্তি শিক্ষায় শিশুরা যাতে গড়ে উঠতে পারে সরকার এমন শিক্ষা পদ্ধতি প্রণয়ন করছে।’

এসময় বাবা-মা, শিক্ষকদের কথা শুনে; নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে সুন্দর জীবন গড়তে শিশু-কিশোরদের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ‘তোমরা বাবা-মায়ের কথা শুনবে। শিক্ষকদের কথা শুনবে। নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলবে। সুন্দরভাবে জীবন যাপন করবে। সেটাই আমরা কামনা করি।’

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমরা আমাদের শিশুদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে মানুষ করতে চাই। দেশকে ভালোবাসে তারা কাজ করবে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। আগামী প্রজন্মের জন্য উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সরকার কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী পালন করবো। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। ২০২০ থেকে ২০২১ আমরা মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। আমরা এই সময়টাকে এমন ভাবে পালন করতে চাই, যেন বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এখানে উপস্থিত সকল শিশু এবং প্রবাসে থাকা আমাদের সকল শিশুর জন্য আমি স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে এতোটুকুই বলবো বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

‘আজকের শিশুরাই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে’ এমন আশাবাদ রেখে সরকার প্রধান বলেন, ‘তোমরাই গড়ে তুলবে একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। ইনশাল্লাহ এই বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ। জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরণ করব।’

প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা রাখেন, ‘আমার দোয়া তোমাদের সঙ্গে রইলো। তোমরা তোমাদের বাবা-মায়ের কথা শুনবে, শিক্ষকদের কথা শুনবে; নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলবে। সুন্দরভাবে জীবন যাপন করবে। সেটাই আমরা কামনা করি। সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

এ সময় চির কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য’র ছাড়পত্র কবিতার কয়েকটি লাইন শিশুদের উদ্দেশ্যে আবৃত্তি করে শোনান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমাদের কবি সুকান্ত মাত্র ১৯ বছর বয়সে মারা যান। কিন্তু লিখে গিয়েছিলেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কবিতা। যায় এখনো আমাদের জন্য প্রযোজ্য। এরপরই আবৃত্তি শুরু করেন:

যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ

প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,

এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি—

নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গিকার।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সবার সহযোগিতা চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিশু কিশোর, অভিভাবক, ছাত্র, শিক্ষক, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যারা শিক্ষাগুরু, মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্মের গুরু সবাইকে আহ্বান জানাবো মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের কুফল সম্পর্কে শিশুদের জানাতে হবে। এর হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অভিভাবক, বাবা-মা তাদের অবশ্যই সবসময় লক্ষ্য রাখতে হবে সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে, কিভাবে মেশে। সবাই যেন লেখাপড়ার দিকে মনোযোগ দেয়, খেলাধুলা, শরীর চর্চা, নানা ধরনের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিশুদের মনন এবং মেধা বিকশিত হবে।

সকাল ৮টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অভিবাদন মঞ্চে এলে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক. ম. মোজাম্মেল হক ও ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান।

এরপর প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে প্যারেড পরিদর্শন করেন।

শিশু-কিশোদের উদ্দেশে বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ে শুদ্ধ সুরে জাতীয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এই তিন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ৯০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

পুরস্কার বিতরণের পর সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিশু-কিশোর সংগঠন মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিবেশন করে।

কুচকাওয়াজের পর শিশু-কিশোর সমাবেশে এবারের থিম সং ‘নোঙর তোল তোল সময় যে হল হল’ গানটি পরিবেশন করা হয়। গানটির সুরের দোলায় স্টেডিয়াম মাঠ অতিক্রম করে দৃষ্টিনন্দন নৌকা। নৌকার পেছনে বর্ণাঢ্য গাড়ি বহরের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন-অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

সবশেষে শিশু-কিশোর সমাবেশের সবচেয়ে আকর্ষণ পরিবেশনা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিশু-কিশোর সংগঠনের ‘মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here