বেতন বৈষম্য নিয়ে আর কত লুকোচুরি?

0
28
বেতন বৈষম্য নিয়ে আর কত লুকোচুরি?
বেতন বৈষম্য নিয়ে আর কত লুকোচুরি?

বেতন বৈষম্য নিয়ে আর কত লুকোচুরি?

স্বাধীনতার পরে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের, সেই প্রয়োজন অনুসারেই বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে দিয়েছিলেন।

তখন প্রধান শিক্ষকের বেতনের সাথে সহকারী শিক্ষকদের বেতনের পার্থক্য ছিলো না, পে স্কেল অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন ছিলো ২২০ টাকা। পরবর্তীতে আজ অবধি বিভিন্ন ফর্মুলার কারণে প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারী শিক্ষকের বেতন/গ্রেডের ব্যাপক পার্থক্য গড়ে উঠে। যা সহকারী শিক্ষকদের খুব মর্মাহত করে। তারপরে সহকারী শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য দাবী নিয়ে রাজপথে আন্দোলনের সাথে সাথে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিদের আলোচনা চলতে থাকে।

আলোচনা পর্যালোচনাতেও কাজ না হলে, শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আমরণ অনশনে যায়, তৎকালীন গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষকদের অনশন ভাঙান। তারপরে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে এই বিষয় টি ন্যায্যতার ভিত্তিতে নিরসন করার জন্য স্থান পায়। নির্বাচন হয়ে গেল,আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসলো কিন্তু আজ অবধি এই বেতন বৈষম্যের ব্যাপারে প্রেস কনফারেন্সের বক্তব্য ছাড়া কিছুই হয়নি।

শিক্ষকরা আশ্বাসের নাভিশ্বাসে হতাশাগ্রস্ত হয়ে সারা দেশে যখন আন্দোলন গড়ে তুলেছে,সেই আন্দোলনের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কোন রকমের অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পক্ষান্তরে ১৯/০৩/২০১৯ মাননীয় উপসচিব মনোয়ারা ইশারাত মহোদয়ের চিঠিতে বিশেষ কোন নির্দেশনা না থাকায় সহকারী শিক্ষকরা হতাশ হয়ে গেলো।

তাই বলতে ইচ্ছে করে ১১ তম গ্রেডের দাবী যদি আপনাদের নিকট যৌক্তিক হয়,তাহলে কেন এত লুকোচুরি?

লেখক: সহকারী শিক্ষক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here