স্বপ্নপূরণ হলো গৃহহীন ৪৮০ পরিবারের

0
17
স্বপ্নপূরণ হলো গৃহহীন ৪৮০ পরিবারের
স্বপ্নপূরণ হলো গৃহহীন ৪৮০ পরিবারের

স্বপ্নপূরণ হলো গৃহহীন ৪৮০ পরিবারের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত দরিদ্র বান্ধব কর্মসূচির আওতায় ‘সবার জন্য বাসস্থান’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ‘জমি আছে, ঘর নাই’ আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে গৃহহীন ৪৮০ পরিবার ঘর পেয়ে তাদের স্বপ্নপূরণ হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঘর পেয়ে কয়েকজন হতদরিদ্র তাদের আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘শেখের বেটি আংগোরে ঘর দিছে আমরা হেরে দোয়া দিয়াম।’

সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর সভায় গৃহহীন পরিবারের জন্য ৪শত ৮০টি আধা পাকা ঘর বরাদ্দ আসে। প্রতিটি ঘর ও টয়লেট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১ লাখ টাকা। এই প্রকল্প বস্তবায়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি ঘর নির্মাণ করে সম্প্রতি গৃহহীনদের মাঝে হস্তান্তর করেন।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘর পাওয়া চন্ডিপুর ইউনিয়নের অভিরামপু গ্রামের শাহিনুর বেগমের সাথে কথা বললে আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘দশ বছর ধরি একখান ঘর কইত্তে হারিনো। তুফান আইলে ঘর উড়াই লই যায় কিনা হেই ডরে ঘুম আইতো না। মেঘ আইলে হানি হড়ে, শীতকালে ঠান্ডায় খুব কষ্ট হাই। ওন আংগোরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘর বানাই দিছে, লেপটিনও করি দিছে, খুব ভালা ওইছে, এখন আডা খুশি। শেখের বেটি আংগোরে ঘর দিছে আমরা হেরে দোয়া দিয়াম।’

চন্ডিপুর গ্রামের মাহফুজা কানে কম শুনেন ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীর কারণে স্বামী পরিত্যক্তা হন। বাবার বাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে ৩০ বছর যাবত বোনের বাড়িতে সামান্য জায়গায় পাতার ছাউনির একটি ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস করতেন।

বিনামূল্যে ঘর পেয়ে তিনি খুব খুশি, যাকে পায় তাকে ঘরটি দেখিয়ে শুধু বলেন, ‘হাসিনারে আল্লাহ বাচাই রাখুখ’।

ঘর পেয়ে উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করে নিচহরা গ্রামের দিনমজুর বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘অনেকদিন থেকে ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে থাকতে খুব সমস্যায় ছিলাম, মনে মনে একটি ঘর করার স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু অভাবে সেটি হয়নি। এখন শেখ হাসিনা গরীবের দুঃখ বুঝে সুন্দর একটি ঘর দেওয়ায় মাথা গোজার জাগা পাইছি।’

ঘর পেয়ে খুশি নন্দনপুর গ্রামের গ্রামের রিক্সা চালক আমির হোসেন, ভোলাকোট গ্রামের বিধবা রৌশনারা বেগম, অভিরামপুর গ্রামের অসহায় কবিতা কংশ বনিক, টামটা গ্রামের প্রতিবন্ধী মোঃ সফিকসহ উপজেলার দুস্থ ও অসহায় অনেকেই।

ঘর বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ভাদুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন ভূইয়া বলেন, ‘যার জমি আছে ঘর নাই’ তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্বিক এবং ব্যক্তিগত আর্থিক সহযোগিতায় ৪শত ৮০ গরীব অসহায় পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুন্দর ও টেকসই ঘর পেয়ে সবাই মানবতার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোয়া করছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানান, সরকারি বিধি মোতাবেক যথাযথভাবে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করা হয়। ১৫ ফুট দৈর্ঘ্য এসব ঘর মেঝো পাকা, সামনে খোলা বারান্দা আরসিসি পিলার, উন্নত টিনের বেড়ার ছাউনিতে ঘেরা। এর সঙ্গে একটু দূরে পয়ঃনিস্কাশনের স্যানিটারী ল্যাট্রিন রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রিজাউল করিম জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক এই মহৎ কাজটি যেন সঠিক এবং সুন্দর ভাবে হয়, সেজন্য সব সময় জেলা প্রশাসকের পরামর্শক্রমে আমরা সবাই রাতদিন আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। গত বছর এপ্রিল মাস থেকে কাজ শুরু করে গত ৩১ ডিসেম্বর মধ্যে ৪শত ৮০টি পরিবারকে তালিকা অনুযায়ী ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন >>>  আগামী বাজেটে প্রত্যেক পরিবারে চাকরি’

আরও পড়ুন >>> গ্যাসের দাম ১০৩ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব তিতাস’র

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here